কিছু
ওষুধ সেবনের নিয়ম-কানুন!
১. ব্যথানাশক ওষুধ যেমন: ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম, ন্যাপ্রোক্সেন, আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন ও কিটোরোলাক ইত্যাদি ভরা পেটে গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় অন্ত্র ফুটো হয়ে যেতে পারে।
২. প্রোটন পাম্প ইনহেবিটর যেমন: ওমিপ্রাজল, প্যান্টোপ্রাজল, ইসোমেপ্রাজল ইত্যাদি খাবারের আগে সেবন করতে হবে।
৩. ঠাণ্ডা-সর্দি বা অ্যালার্জির জন্য অ্যান্টিহিস্টাম¬িন, যেমন: লোরাটাডিন, সেটিরিজিন, ফেক্সোফেনাডিন খালি পেটে গ্রহণ করলে এর কার্যকারিতা বেশি হয়।
৪. অ্যান্টাসিড খাবারের পর না খেয়ে ৩০ মিনিট পর খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
৫. সিপ্রোফ্লোক্সাস¬িন খাবার খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি দিয়ে সেবন করাই ভালো। সিপ্রোফ্লক্সাসি¬ন গ্রহণের ২ ঘণ্টার মধ্যে দুগ্ধজাত খাবার বা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, আয়রন বা জিংকযুক্ত খাবার খাওয়া উচিৎ না
৬. ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট, আয়রন ট্যাবলেট, মাল্টিভিটামিন খাবার কয়েক ঘণ্টা আগে বা পরে সেবন করতে পারেন।
৭. পেনিসিলিন খালি পেটে সেবন করাই ভালো।
৮. কিছু ওষুধ যেমন_ কোট্রিম সেবন করলে বেশি পরিমাণে পানি পান করতে হবে। না হলে এটি কিডনিতে পাথর তৈরি করে সমস্যা করতে পারে।
৯. একসঙ্গে বেশ কয়েকটি ওষুধ সেবন করলে ওষুধের মধ্যে প্রতিক্রিয়ায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওষুধের কার্যকারিতা কমতে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওষুধের কার্যকারিতা বাড়তে পারে। এ দুটোই বেশ ক্ষতিকর। তাই এ ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মানতে হবে।
১০. হাঁপানি আছে এমন ব্যক্তির ব্যথানাশক ওষুধ, বেটা ব্লকার-এটেনোলল, প্রোপানোলল সেবন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
১১. গর্ভাবস্থায় ওষুধ সেবন গর্ভধারণ ও ভ্রূণের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। থ্যালিডোমাইড, রেটিনয়েড, ক্যান্সারের ওষুধ সেবন করলে গর্ভের শিশুর ক্ষতি হতে পারে। গর্ভকালীন টেট্রাসাইক্লিন শিশুর দাঁত ও হাড়ের গঠনে বাধা দেয়। গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ওষুধ শিশুর হাইপোগ্গ্নাইসেম¬িয়া করে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তাই এ সময় ইনসুলিন নিতে হয়।বয়স ভিত্তিক খাদ্য তালিকা
পাঁচ মাসের শিশুর সুষম খাদ্য (প্রতি বেলার)
খাদ্য সামগ্রী পরিমাণ
১। চালের গুড়া তরল ৩০ গ্রাম
২। পাকা পেঁপে ২০ গ্রাম
৩। কচি পাতার সবজি ১০ গ্রাম
৪। চিনি/মধু
৫ গ্রাম
৫। দুধ
৫০ গ্রাম
মোট
১১৫ গ্রাম
ছয় থেকে বারো মাসের শিশুর দৈনিক খাদ্য
খাবার দৈনিক প্রয়োজন প্রাপ্ত পুষ্টি উপাদান
নরম ভাত ৪/৩ ছটাক চালের (৪৫ গ্রাম) কিলো ক্যালরী: ৬৫০
আমিষ (প্রোটিন): ২২ গ্রাম
রুটি দুধে ভিজিয়ে
টেবিল চামচের প্রায় ২.৫ চামচ (৪৫গ্রাম) ক্যালসিয়াম: ৩৫০ (মিঃ গ্রাম)
ডাল নরম খিচুরী করে ২ চায়ের চামচ (১০ গ্রাম) লৌহ (আয়রন): ৭.৪৭ (মিঃ গ্রাম)
আলু চটকিয়ে ছোট ১টা ভিটামিন এ : ৩১০ (আই, ইউ)
শাক পাতা ও অন্যান্য
সবজি ভাতের সাথে ১ ছটাক (৬০ গ্রাম) ক্যারোটিন : ১৬৮০ (মাঃ গ্রাম)
পাকা কলা ১টা (ছোট)
ভিটামিন বি২ : ০.৬৮ (মিঃ গ্রাম)
ডিম (সামর্থ থাকলে) ১টা ভিটামিন সি : ১৭ (মিঃ গ্রাম)
১- ৩ বছরের শিশুর দৈনিক খাদ্য
খাবার
দৈনিক প্রয়োজন প্রাপ্ত পুষ্টি উপাদান
ভাত/পিঠা/মুড়ি/চিড়া/
১.৭৫ ছালের (৭৫ গ্রাম)
কিলো ক্যালরীঃ ১৩৭৫
ডাল ১.৫ মুষ্টি (৯০ গ্রাম) প্রোটিনঃ ৩৫ (গ্রাম)
রুটি/বিস্কুট ১ ছটাক আটার (৬০ গ্রাম) ক্যালসিয়ামঃ ৫৫০ (মিঃ গ্রাম)
শাকের নিরমিষ বা ভাজি ১ ছটাক (৬০ গ্রাম) আয়রনঃ ২২ (মিঃ গ্রাম)
মিষ্টি আলু
১ ছটাক (৬০ গ্রাম) ভিটামিন এঃ ৩২০ (আই, ইউ)
তেল ২ চা চামচ (১০ এম এল)
মাছ বা মাংসের তরকারীতে
সবজি ০.৫ ছটাক (৩০ গ্রাম) ক্যারোটিনঃ ৩৭৭০ (মাঃ গ্রাম)
আলু
০.৭৫ ছটাক (৪৫ গ্রাম)
মাছ বা মাংস ০.৫ ছটাক (৩০ গ্রাম)
ভিটামিন বি-২ : ০.৫০ (মিঃ গ্রাম)
দুধ-ভাত/পায়েশ/ দুধ/রুটি/সুজি ৪ ছটাক দুধের (২৫০ এম এল) ভিটামিন সিঃ ১৭ (মিঃ গ্রাম)
রান্নার চিনি বা গুড় ১ ছটাক (৬০ গ্রাম)
ফল (মাঝারি)
১টা
কিশোর-কিশোরীর সুষম খাদ্য (প্রতি বেলার জন্য)
খাদ্য সামগ্রী পরিমাণ
কিশোরী কিশোর
১। ভাত/রুটি
১৫০ গ্রাম ২৫০ গ্রাম
২। আলু ভর্তা/ভাজি ৫০ গ্রাম
৬০ গ্রাম
৩। ছোট মাছ ৬০ গ্রাম ৬০ গ্রাম
৪। শাক-সবজি ১০০ গ্রাম
১০০ গ্রাম
৫। মৌসুমী ফল ১০০ গ্রাম
১০০ গ্রাম
মোট
৪৬০ গ্রাম ৫৭০ গ্রাম
প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের দৈনিক খদ্য তলিকা (সস্তা খাবার)
খাবার দৈনিক প্রয়োজন প্রাপ্ত পুষ্টি উপাদান
মোটা চাল ৪ ছটাক (২৫০ গ্রাম) কিলো ক্যালরীঃ ২৭৭০
আটা
৪ ছটাক (২৫০ গ্রাম) প্রোটিনঃ ৮০ গ্রাম
ডাল, সিমের বিচি মটরশুটি প্রভৃতি ১.৫ ছটাক (৯০ গ্রাম) ক্যালসিয়ামঃ ৭০০ (মিঃ গ্রাম)
ছোট মাছ ১ ছটাক (৬০ গ্রাম) আয়রনঃ ৬০ (মিঃ গ্রাম)
মিষ্টি আলু
২ ছটাক (১২৫ গ্রাম)
শাক (কচু, সাজনা, পালং, পুঁই, লাল শাক )
১.৫ ছটাক (৯০ গ্রাম) ভিটামিন- এঃ ১২৪৫ (আই,ইউ)
সবজি (সিম, উচ্ছে, ঢেঁড়ষ, পটল, লাউ প্রভৃতি) ১.৫ ছটাক (৯০ গ্রাম) ভিটামিন - বি২: ১.৫ (মিঃ গ্রাম)
ফল (পেয়ারা, আমলকি, কুল, আম প্রভৃতি)
২/১ টি ভিটামিন- সিঃ ১৮০ (মিঃ গ্রাম)
তৈল (সয়াবিন) ১ ছটাক (৬০ গ্রাম)
চিনি বা গুড়
০.৫ ছটাক (৩০ গ্রাম)
পূর্ণ বয়স্ক পরিশ্রমী পুরুষের সুষম খাদ্য (প্রতি বেলার)
খাদ্য সামগ্রী পরিমাণ
১। ভাত/রুটি ২৫০ গ্রাম
২। আলু ভাজি ১০০ গ্রাম
৩। ছোট মাছ ৮০ গ্রাম
৪। শাক-সবজি
২৫০ গ্রাম
৫। মৌসুমী ফল
২৫০ গ্রাম
৬। মাংস ৫০ গ্রাম
৭। চিনি/গুড় ২০ গ্রাম
৮। দুধ ৩০০ গ্রাম
মোট ১৩০০ গ্রাম
প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলার দৈনিক খাদ্য তালিকা
খাবার
দৈনিক প্রয়োজন প্রাপ্ত পুষ্টি উপাদান
চাল/আটা
৬ ছটাক (৩৭৫ গ্রাম) কিলো ক্যালরীঃ ২১০০
ডাল ০.৭৫ ছটাক (৪৫ গ্রাম) প্রোটিনঃ ৫৬ গ্রাম
শাক ২.৫ ছটাক (১৫৫ গ্রাম) ক্যালসিয়ামঃ ৬০০ (মিঃ গ্রাম)
অন্যান্য সবজি
১.৫ ছটাক (৯০ গ্রাম) আয়রনঃ ৪০ (মিঃ গ্রাম)
আলু/মিষ্টি আলু
১ ছটাক (৬০ গ্রাম) ভিটামিন- এঃ ৩৫০ (আই,ইউ)
মাছ/মাংস/ডিম ১ ছটাক (৬০ গ্রাম)
ক্যারোটিনঃ ৭৫০০ (মাঃ গ্রাম)
তৈল (সয়াবিন) ১ ছটাক (৬০ গ্রাম) ভিটামিন-‘বি২’: ১.১ (মিঃ গ্রাম)
ফল
১ টি ভিটামিন- সিঃ ৫৫ (মিঃ গ্রাম)
গর্ভবতী মায়ের সুষম খাদ্য (প্রতি বেলার)
খাদ্য সামগ্রী পরিমাণ
১। ভাত/রুটি ২৬০ গ্রাম
২। টাটকা শাক ১২০ গ্রাম
৩। সবজি
৮০ গ্রাম
৪। ডাল (মসুর)
৪০ গ্রাম
৫। ছোট মাছ/মাংস ৬০ গ্রাম
৬। মৌসুমী ফল ১৫০ গ্রাম
৭। চিনি/গুড় ২০ গ্রাম
৮। দুধ
২৫০ গ্রাম
৯। ডিম ২০ গ্রাম
মোট
১০০০ গ্রাম
প্রসূতি মায়ের সুষম খাদ্য (প্রতি বেলার)
খাদ্য সামগ্রী পরিমাণ
১। ভাত/রুটি
২৬০ গ্রাম
২। ডাল (মসুর) ৪০ গ্রাম
৩। শাক-সবজি ২০০ গ্রাম
৪। ছোট মাছ ৮০ গ্রাম
৫। মৌসুমী ফল ২০০ গ্রাম
৬। মাছ/মাংস
৬০ গ্রাম
৭। চিনি/দুধ ৩০০ গ্রাম
৮। চিনি/গুড় ৬০ গ্রাম
মোট ১২০০ গ্রাম
বৃদ্ধের খাদ্য
বৃদ্ধ বয়সের পুষ্টি চাহিদা
বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে দৈহিক কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে ফলে তাদের খাদ্যে শর্করার প্রয়োজন কমে যায়। তাই জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞগণ ৪০ থেকে ৫৯ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি ১০ বছরের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালরীর শতকরা ৫ ভাগ কম গ্রহণ করার সুপারিশ করেছেন। তারপর ৬০ থেকে ৬৯ বছরে শতকরা ১০ ভাগ এবং ৭০ বছরের পর থেকে আরও শতকরা ১০ ভাগ ক্যালরী হ্রাস করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তাদের মোট ক্যালরীর প্রায় অর্ধেক শর্করা জাতীয় খাদ্য থেকে নেয়া প্রয়োজন। যারা অবসর জীবন যাপন করেন তারা যদি পূর্বের মতই খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখেন তবে তারা স্থুলকায় হয়ে যাবেন। এর ফলে তারা সহজেই বহুমূত্র, উচ্চ রক্তচাপ,
রেনাল ডিজিস সহ বিভিন্ন রোগে সহজেই আক্রান্ত হতে পারেন।
বৃদ্ধ বয়সে আমিষের চাহিদা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা যায় না। শারীরিক বিভিন্ন অবস্থার পেক্ষিতে চাহিদার হ্রাস বৃদ্ধি হতে পারে। এ বয়সে ফ্যাট বা চর্বির প্রয়োজন কম। অধিক চর্বি গ্রহণ হৃদরোগের কারণ হতে পারে। বৃদ্ধ বয়সে লৌহ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘সি’ এবং ফলিক এসিডের ঘাটতি হয়ে থাকে এবং যারা সূর্যের আলোতে খুব কম বের হন তাদের ভিটামিন ‘ডি’ এর ঘাটতি হতে পারে। বৃদ্ধ লোকদের দৈনিক প্রচুর পানিরও প্রয়োজন। এজন্যে ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি বা ফলের রস দৈনিক খাওয়া প্রয়োজন যাতে দৈনিক প্রসারের পরিমাণ আনুমানিক দেড় লিটার হতে পারে।
১. ব্যথানাশক ওষুধ যেমন: ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম, ন্যাপ্রোক্সেন, আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন ও কিটোরোলাক ইত্যাদি ভরা পেটে গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় অন্ত্র ফুটো হয়ে যেতে পারে।
২. প্রোটন পাম্প ইনহেবিটর যেমন: ওমিপ্রাজল, প্যান্টোপ্রাজল, ইসোমেপ্রাজল ইত্যাদি খাবারের আগে সেবন করতে হবে।
৩. ঠাণ্ডা-সর্দি বা অ্যালার্জির জন্য অ্যান্টিহিস্টাম¬িন, যেমন: লোরাটাডিন, সেটিরিজিন, ফেক্সোফেনাডিন খালি পেটে গ্রহণ করলে এর কার্যকারিতা বেশি হয়।
৪. অ্যান্টাসিড খাবারের পর না খেয়ে ৩০ মিনিট পর খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
৫. সিপ্রোফ্লোক্সাস¬িন খাবার খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি দিয়ে সেবন করাই ভালো। সিপ্রোফ্লক্সাসি¬ন গ্রহণের ২ ঘণ্টার মধ্যে দুগ্ধজাত খাবার বা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, আয়রন বা জিংকযুক্ত খাবার খাওয়া উচিৎ না
৬. ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট, আয়রন ট্যাবলেট, মাল্টিভিটামিন খাবার কয়েক ঘণ্টা আগে বা পরে সেবন করতে পারেন।
৭. পেনিসিলিন খালি পেটে সেবন করাই ভালো।
৮. কিছু ওষুধ যেমন_ কোট্রিম সেবন করলে বেশি পরিমাণে পানি পান করতে হবে। না হলে এটি কিডনিতে পাথর তৈরি করে সমস্যা করতে পারে।
৯. একসঙ্গে বেশ কয়েকটি ওষুধ সেবন করলে ওষুধের মধ্যে প্রতিক্রিয়ায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওষুধের কার্যকারিতা কমতে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওষুধের কার্যকারিতা বাড়তে পারে। এ দুটোই বেশ ক্ষতিকর। তাই এ ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মানতে হবে।
১০. হাঁপানি আছে এমন ব্যক্তির ব্যথানাশক ওষুধ, বেটা ব্লকার-এটেনোলল, প্রোপানোলল সেবন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
১১. গর্ভাবস্থায় ওষুধ সেবন গর্ভধারণ ও ভ্রূণের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। থ্যালিডোমাইড, রেটিনয়েড, ক্যান্সারের ওষুধ সেবন করলে গর্ভের শিশুর ক্ষতি হতে পারে। গর্ভকালীন টেট্রাসাইক্লিন শিশুর দাঁত ও হাড়ের গঠনে বাধা দেয়। গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ওষুধ শিশুর হাইপোগ্গ্নাইসেম¬িয়া করে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তাই এ সময় ইনসুলিন নিতে হয়।বয়স ভিত্তিক খাদ্য তালিকা
পাঁচ মাসের শিশুর সুষম খাদ্য (প্রতি বেলার)
খাদ্য সামগ্রী পরিমাণ
১। চালের গুড়া তরল ৩০ গ্রাম
২। পাকা পেঁপে ২০ গ্রাম
৩। কচি পাতার সবজি ১০ গ্রাম
৪। চিনি/মধু
৫ গ্রাম
৫। দুধ
৫০ গ্রাম
মোট
১১৫ গ্রাম
ছয় থেকে বারো মাসের শিশুর দৈনিক খাদ্য
খাবার দৈনিক প্রয়োজন প্রাপ্ত পুষ্টি উপাদান
নরম ভাত ৪/৩ ছটাক চালের (৪৫ গ্রাম) কিলো ক্যালরী: ৬৫০
আমিষ (প্রোটিন): ২২ গ্রাম
রুটি দুধে ভিজিয়ে
টেবিল চামচের প্রায় ২.৫ চামচ (৪৫গ্রাম) ক্যালসিয়াম: ৩৫০ (মিঃ গ্রাম)
ডাল নরম খিচুরী করে ২ চায়ের চামচ (১০ গ্রাম) লৌহ (আয়রন): ৭.৪৭ (মিঃ গ্রাম)
আলু চটকিয়ে ছোট ১টা ভিটামিন এ : ৩১০ (আই, ইউ)
শাক পাতা ও অন্যান্য
সবজি ভাতের সাথে ১ ছটাক (৬০ গ্রাম) ক্যারোটিন : ১৬৮০ (মাঃ গ্রাম)
পাকা কলা ১টা (ছোট)
ভিটামিন বি২ : ০.৬৮ (মিঃ গ্রাম)
ডিম (সামর্থ থাকলে) ১টা ভিটামিন সি : ১৭ (মিঃ গ্রাম)
১- ৩ বছরের শিশুর দৈনিক খাদ্য
খাবার
দৈনিক প্রয়োজন প্রাপ্ত পুষ্টি উপাদান
ভাত/পিঠা/মুড়ি/চিড়া/
১.৭৫ ছালের (৭৫ গ্রাম)
কিলো ক্যালরীঃ ১৩৭৫
ডাল ১.৫ মুষ্টি (৯০ গ্রাম) প্রোটিনঃ ৩৫ (গ্রাম)
রুটি/বিস্কুট ১ ছটাক আটার (৬০ গ্রাম) ক্যালসিয়ামঃ ৫৫০ (মিঃ গ্রাম)
শাকের নিরমিষ বা ভাজি ১ ছটাক (৬০ গ্রাম) আয়রনঃ ২২ (মিঃ গ্রাম)
মিষ্টি আলু
১ ছটাক (৬০ গ্রাম) ভিটামিন এঃ ৩২০ (আই, ইউ)
তেল ২ চা চামচ (১০ এম এল)
মাছ বা মাংসের তরকারীতে
সবজি ০.৫ ছটাক (৩০ গ্রাম) ক্যারোটিনঃ ৩৭৭০ (মাঃ গ্রাম)
আলু
০.৭৫ ছটাক (৪৫ গ্রাম)
মাছ বা মাংস ০.৫ ছটাক (৩০ গ্রাম)
ভিটামিন বি-২ : ০.৫০ (মিঃ গ্রাম)
দুধ-ভাত/পায়েশ/ দুধ/রুটি/সুজি ৪ ছটাক দুধের (২৫০ এম এল) ভিটামিন সিঃ ১৭ (মিঃ গ্রাম)
রান্নার চিনি বা গুড় ১ ছটাক (৬০ গ্রাম)
ফল (মাঝারি)
১টা
কিশোর-কিশোরীর সুষম খাদ্য (প্রতি বেলার জন্য)
খাদ্য সামগ্রী পরিমাণ
কিশোরী কিশোর
১। ভাত/রুটি
১৫০ গ্রাম ২৫০ গ্রাম
২। আলু ভর্তা/ভাজি ৫০ গ্রাম
৬০ গ্রাম
৩। ছোট মাছ ৬০ গ্রাম ৬০ গ্রাম
৪। শাক-সবজি ১০০ গ্রাম
১০০ গ্রাম
৫। মৌসুমী ফল ১০০ গ্রাম
১০০ গ্রাম
মোট
৪৬০ গ্রাম ৫৭০ গ্রাম
প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের দৈনিক খদ্য তলিকা (সস্তা খাবার)
খাবার দৈনিক প্রয়োজন প্রাপ্ত পুষ্টি উপাদান
মোটা চাল ৪ ছটাক (২৫০ গ্রাম) কিলো ক্যালরীঃ ২৭৭০
আটা
৪ ছটাক (২৫০ গ্রাম) প্রোটিনঃ ৮০ গ্রাম
ডাল, সিমের বিচি মটরশুটি প্রভৃতি ১.৫ ছটাক (৯০ গ্রাম) ক্যালসিয়ামঃ ৭০০ (মিঃ গ্রাম)
ছোট মাছ ১ ছটাক (৬০ গ্রাম) আয়রনঃ ৬০ (মিঃ গ্রাম)
মিষ্টি আলু
২ ছটাক (১২৫ গ্রাম)
শাক (কচু, সাজনা, পালং, পুঁই, লাল শাক )
১.৫ ছটাক (৯০ গ্রাম) ভিটামিন- এঃ ১২৪৫ (আই,ইউ)
সবজি (সিম, উচ্ছে, ঢেঁড়ষ, পটল, লাউ প্রভৃতি) ১.৫ ছটাক (৯০ গ্রাম) ভিটামিন - বি২: ১.৫ (মিঃ গ্রাম)
ফল (পেয়ারা, আমলকি, কুল, আম প্রভৃতি)
২/১ টি ভিটামিন- সিঃ ১৮০ (মিঃ গ্রাম)
তৈল (সয়াবিন) ১ ছটাক (৬০ গ্রাম)
চিনি বা গুড়
০.৫ ছটাক (৩০ গ্রাম)
পূর্ণ বয়স্ক পরিশ্রমী পুরুষের সুষম খাদ্য (প্রতি বেলার)
খাদ্য সামগ্রী পরিমাণ
১। ভাত/রুটি ২৫০ গ্রাম
২। আলু ভাজি ১০০ গ্রাম
৩। ছোট মাছ ৮০ গ্রাম
৪। শাক-সবজি
২৫০ গ্রাম
৫। মৌসুমী ফল
২৫০ গ্রাম
৬। মাংস ৫০ গ্রাম
৭। চিনি/গুড় ২০ গ্রাম
৮। দুধ ৩০০ গ্রাম
মোট ১৩০০ গ্রাম
প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলার দৈনিক খাদ্য তালিকা
খাবার
দৈনিক প্রয়োজন প্রাপ্ত পুষ্টি উপাদান
চাল/আটা
৬ ছটাক (৩৭৫ গ্রাম) কিলো ক্যালরীঃ ২১০০
ডাল ০.৭৫ ছটাক (৪৫ গ্রাম) প্রোটিনঃ ৫৬ গ্রাম
শাক ২.৫ ছটাক (১৫৫ গ্রাম) ক্যালসিয়ামঃ ৬০০ (মিঃ গ্রাম)
অন্যান্য সবজি
১.৫ ছটাক (৯০ গ্রাম) আয়রনঃ ৪০ (মিঃ গ্রাম)
আলু/মিষ্টি আলু
১ ছটাক (৬০ গ্রাম) ভিটামিন- এঃ ৩৫০ (আই,ইউ)
মাছ/মাংস/ডিম ১ ছটাক (৬০ গ্রাম)
ক্যারোটিনঃ ৭৫০০ (মাঃ গ্রাম)
তৈল (সয়াবিন) ১ ছটাক (৬০ গ্রাম) ভিটামিন-‘বি২’: ১.১ (মিঃ গ্রাম)
ফল
১ টি ভিটামিন- সিঃ ৫৫ (মিঃ গ্রাম)
গর্ভবতী মায়ের সুষম খাদ্য (প্রতি বেলার)
খাদ্য সামগ্রী পরিমাণ
১। ভাত/রুটি ২৬০ গ্রাম
২। টাটকা শাক ১২০ গ্রাম
৩। সবজি
৮০ গ্রাম
৪। ডাল (মসুর)
৪০ গ্রাম
৫। ছোট মাছ/মাংস ৬০ গ্রাম
৬। মৌসুমী ফল ১৫০ গ্রাম
৭। চিনি/গুড় ২০ গ্রাম
৮। দুধ
২৫০ গ্রাম
৯। ডিম ২০ গ্রাম
মোট
১০০০ গ্রাম
প্রসূতি মায়ের সুষম খাদ্য (প্রতি বেলার)
খাদ্য সামগ্রী পরিমাণ
১। ভাত/রুটি
২৬০ গ্রাম
২। ডাল (মসুর) ৪০ গ্রাম
৩। শাক-সবজি ২০০ গ্রাম
৪। ছোট মাছ ৮০ গ্রাম
৫। মৌসুমী ফল ২০০ গ্রাম
৬। মাছ/মাংস
৬০ গ্রাম
৭। চিনি/দুধ ৩০০ গ্রাম
৮। চিনি/গুড় ৬০ গ্রাম
মোট ১২০০ গ্রাম
বৃদ্ধের খাদ্য
বৃদ্ধ বয়সের পুষ্টি চাহিদা
বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে দৈহিক কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে ফলে তাদের খাদ্যে শর্করার প্রয়োজন কমে যায়। তাই জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞগণ ৪০ থেকে ৫৯ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি ১০ বছরের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালরীর শতকরা ৫ ভাগ কম গ্রহণ করার সুপারিশ করেছেন। তারপর ৬০ থেকে ৬৯ বছরে শতকরা ১০ ভাগ এবং ৭০ বছরের পর থেকে আরও শতকরা ১০ ভাগ ক্যালরী হ্রাস করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তাদের মোট ক্যালরীর প্রায় অর্ধেক শর্করা জাতীয় খাদ্য থেকে নেয়া প্রয়োজন। যারা অবসর জীবন যাপন করেন তারা যদি পূর্বের মতই খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখেন তবে তারা স্থুলকায় হয়ে যাবেন। এর ফলে তারা সহজেই বহুমূত্র, উচ্চ রক্তচাপ,
রেনাল ডিজিস সহ বিভিন্ন রোগে সহজেই আক্রান্ত হতে পারেন।
বৃদ্ধ বয়সে আমিষের চাহিদা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা যায় না। শারীরিক বিভিন্ন অবস্থার পেক্ষিতে চাহিদার হ্রাস বৃদ্ধি হতে পারে। এ বয়সে ফ্যাট বা চর্বির প্রয়োজন কম। অধিক চর্বি গ্রহণ হৃদরোগের কারণ হতে পারে। বৃদ্ধ বয়সে লৌহ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘সি’ এবং ফলিক এসিডের ঘাটতি হয়ে থাকে এবং যারা সূর্যের আলোতে খুব কম বের হন তাদের ভিটামিন ‘ডি’ এর ঘাটতি হতে পারে। বৃদ্ধ লোকদের দৈনিক প্রচুর পানিরও প্রয়োজন। এজন্যে ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি বা ফলের রস দৈনিক খাওয়া প্রয়োজন যাতে দৈনিক প্রসারের পরিমাণ আনুমানিক দেড় লিটার হতে পারে।

0 Comments
Post a Comment